গাজীপুর-৫ এ পোস্টার বিতর্কে উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ,জামায়াত প্রার্থী খায়রুল হাসান, বিএনপি প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন ও দুই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকাজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার ফুলদী বাজারে জামায়েত ইসলামির প্রার্থী খায়রুল হাসানের দাড়িপাল্লার পোস্টারের ওপর বিএনপি প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলনের ধানের শীষের পোস্টার লাগানো হয়েছে।এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই পোস্টারের ওপর পোস্টার লাগানোকে নোংরা রাজনীতি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। ভোটারদের প্রতিক্রিয়াতেও ক্ষোভ স্পষ্ট। ফুলদী বাজার, পূবাইলের কিছু এলাকায় সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—যারা নিয়ম মানে না, আইন মানে না, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে? পোস্টার বিতর্কে যারা জড়িত তাদের ভোট কমবে।
সিদ্ধান্তমূলক ভোটাররা বলছেন, পোস্টারের ওপর পোস্টার লাগানো শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, রাজনৈতিক অশোভন কাজ; এতে ভোট বাড়বে না, কমবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজীপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খায়রুল হাসানের নির্বাচনী পোস্টারের ওপর বিএনপির প্রার্থী একে এম ফজলুল হক মিলনের পোস্টার লাগানো হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি করেছে।
জামায়াত প্রার্থী খায়রুল হাসান বলেন—রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে আমাদের পোস্টারের ওপর বিএনপি পোস্টার সেঁটে দিচ্ছে। এটি নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। জনগণের রায়ের ওপর আস্থা না থাকলেই এমন কাজ করা হয়। আমরা সহনশীল রাজনীতি চাই, নোংরা রাজনীতি না। এদিকে বিএনপি প্রার্থী মিলনের পক্ষ থেকেও উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। মিলনের ঘনিষ্ঠ একজন স্থানীয় নেতা বলেন— আমরা চাই পরিচ্ছন্ন ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা। যারা পোস্টারের ওপর পোস্টার লাগাচ্ছে, তারা আসলে বিএনপির বদনাম করছে।
দলীয় সিদ্ধান্তও এটি সমর্থন করে না। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও বিভক্ত। বিএনপিুশুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে কেউ কেউ সরাসরি সমালোচনায় লিখছেন—এগুলো আওয়ামী লীগের স্টাইলে নোংরা রাজনীতি। এগুলো করলে জনগণ ফিরেও তাকাবে না। বিএনপির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আইনজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় বিদ্বেষ ছড়ানো বা প্রতিপক্ষের পোস্টার নষ্ট করা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন, যার জন্য জরিমানা থেকে প্রার্থিতা বাতিল পর্যন্ত হতে পারে। গাজীপুর-৫ এর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—নির্বাচনের আগে এমন পোস্টারুযুদ্ধ মাঠকে উত্তপ্ত করবে। এতে বিএনপি ভেতরে ভেতরে চাপের মুখে পড়তে পারে। এ অবস্থায় দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আহ্বান—পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর রাজনীতি করুন। কে কতটা উন্নয়ন করবে সেটা দেখান, পোস্টারে যুদ্ধ নয়।

