গাজীপুর–৫ আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ময়দান এখন কার্যত উত্তাল। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, ভোটারদের মনোভাব এবং সর্বস্তরের জনমত বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় এখন প্রশ্নাতীত সত্যে পরিণত হয়েছে—এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান ছাড়া ১২ দলীয় ঐক্যজোটের বিজয়ের কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই।জনতার রায় স্পষ্ট দাঁড়িপাল্লা ছাড়া জয়ের সমীকরণই নেই।
কালীগঞ্জ, পূবাইল ও বাড়িয়া—এই তিন অঞ্চলে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু জনপ্রিয়তা নয়, বরং একটি নীরব গণভোটে রূপ নিয়েছে। গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, চায়ের দোকান, অটোরিকশা স্ট্যান্ড, মসজিদ প্রাঙ্গণ—সব জায়গায় উচ্চারিত হচ্ছে একটিই বাক্য— গাজীপুরে যদি একটি আসন আসে, তা হবে গাজীপুর–৫; আর সেটি দাঁড়িপাল্লা ছাড়া সম্ভব নয়। সব পেশার ভোটার এক কণ্ঠে কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,আমরা মাটির মানুষ। কে আমাদের দুঃখ বোঝে জানি। খায়রুল হাসান ছাড়া কাউকে চাই না। অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,দাঁড়িপাল্লা না থাকলে ভোট দিতে যাব না—এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়েছি। ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি আর দখলদারির বিরুদ্ধে যে মানুষটা সবসময় কথা বলেছে, সে খায়রুল হাসান। এই আসনের জয়ের চাবিকাঠি তার হাতেই। শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, নারী ভোটারদের আস্থা অর্জন করা সহজ নয়। খায়রুল হাসান সেটা পেরেছেন।
মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন,ত্যাগী, সৎ ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক খায়রুল হাসান। দাঁড়িপাল্লা মানেই বিশ্বাস। উনাকে প্রার্থী না করা হলে ঐকজোটের পরাজয় নিশ্চিত। তরুণ ভোটার সাইফুল ইসলাম বলেন,আমরা ভোগবাদী রাজনীতি চাই না। আমরা চাই ত্যাগের রাজনীতি,যেটা খায়রুল হাসান করেছেন। গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন,ঘরে ঘরে এসে সালাম দেওয়া মানুষটাকেই আমরা এমপি হিসেবে দেখতে চাই। ত্যাগের রাজনীতি, জনতার শক্তিফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকা মো. খায়রুল হাসান হামলা-মামলা উপেক্ষা করে রাজপথে থেকেছেন বছরের পর বছর। তিন দফায় কারাবরণ, দীর্ঘ ১৫ বছর নিজ বাসায় অবস্থান করতে না পারা—এই ত্যাগ তাকে কাগুজে নেতা নয়, বরং জনতার পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,ভুল সিদ্ধান্ত মানেই নিশ্চিত পরাজয়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, বিএনপির শক্ত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলন-এর বিপরীতে দাঁড়িপাল্লা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক দাঁড় করানো মানেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মাঠে নিষ্ক্রিয় প্রার্থী সামনে আনলে সেটি পরিকল্পিতভাবে আসনটি হারানোর শামিল বলেই মনে করছেন ভোটাররা।চায়ের দোকানদার জয়নাল আবেদিন সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন,খায়রুল হাসান বাদ মানেই এই আসন হাতছাড়া। রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন পরিষ্কার— ১২ দলীয় ঐক্যজোট যদি গাজীপুর–৫ আসনে জয় চায়, তবে জনতার কণ্ঠ ও দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. খায়রুল হাসান শুধু একজন প্রার্থী নন—তিনি এখন গাজীপুর–৫ এর জনতার রায়, জনতার প্রতীক ও জনতার আশা। ভোটারদের প্রশ্ন, জয়ের জন্য ঐকজোট করে খায়রুল হাসানকে বাদ দিয়ে পরাজয় নিশ্চিত করবে কার স্বার্থে?

