logo
ads

পূবাইলে যুবদলের ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশকাল: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮ পি.এম
পূবাইলে যুবদলের ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে পুরনো খেলা, ভেতর থেকে ভাঙন, বাইরে ঐক্যের নাটক। পূবাইল থানা যুবদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিকে ঘিরে সেই পুরনো অভিযোগই এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভে। বুধবার রাতে পূবাইল যুবদলের বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গ করে এই কমিটিকে আখ্যা দিয়েছেন —“বুড়া কমিটি, কাউয়া কমিটি, বেলচা কমিটি, আলু কমিটি, বেলজিয়াম কমিটি ও পকেট কমিটি” নামে। তাদের ভাষায়, “নেতৃত্ব নয়, এখানে সাজানো হয়েছে নির্বাচন ধ্বংসের প্রকল্প।”
 
ঝাড়ু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পূবাইল থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক,আনোয়ার মোড়ল, সোহরাব হোসেন সরকার, সাবেক ছাত্রদল নেতা আজমিন খান, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম রিজভী, ইঞ্জিনিয়ার আলম মোল্লা, পারভেজ হোসেন, হাবিবুল্লাহ হাবিব, রোমাজ্জল হোসেন জামাল, আবু হানিফ মোল্লা, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ, শুকুর আলী, জাহাঙ্গীর আলম, ডলার সোহেল, জুলহাস জুবায়ের, মাহবুব খান, ইয়াসিন পাঠানসহ স্থানীয় ও মহানগরের একাধিক নেতাকর্মী।
 
 
ঝাড়ু মিছিলকারী যুবদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সদ্য ঘোষিত পূবাইল থানা যুবদলের সভাপতি মুজিবুর রহমান রাজিব (৩৯ নং ওয়ার্ড) পড়েছেন গাজীপুর–২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল করিম রনির এলাকায়। আর সাধারণ সম্পাদক সোহেল খান (৪০ নং ওয়ার্ড) পড়েছেন গাজীপুর–৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী এ.কে.এম ফজলুল হক মিলনের এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ভৌগোলিক কাকতালীয়তা নয়, বরং কৌশল, দুই আসনেই ধানের শীষের ভোট কেটে নেওয়ার জন্য ভেতর থেকে বিভ্রান্তি তৈরির পরিকল্পনা।
 
এক যুবদল নেতা ব্যঙ্গ করে বলেন,যারা মাঠে নেই, যারা আন্দোলনে ছিল না, যারা দুঃসময়ে পলাতক ছিল,তারাই আজ নেতা! আর যারা রাস্তায় ছিল, জেলে গেছে, মামলা খেয়েছে,তারা আজ দর্শক! আরেকজন বলেন, এটা সংগঠন নয়, এটা পকেট কমিটি। এটা রাজনীতি নয়, এটা ভোট কাটার ফাঁদ।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, অতীতের নির্বাচনে দলীয় বিভ্রান্তি, ভেতরের কোন্দল আর কৃত্রিম নেতৃত্বই পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল। এবার সেই একই চিত্র নতুন মোড়কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে — যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপির সম্ভাবনাকে ভেতর থেকেই দুর্বল করা যায়।
 
ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে তারা অপরিচ্ছন্ন রাজনীতি পরিষ্কারের প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন ও আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই কমিটি বাতিল করে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠের নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আগামী বিকাল ৩টায় অবৈধ কমিটি বাতিল না করা হলে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত পূবাইলের রাজনীতি যেন দাঁড়িয়ে আছে এক ব্যঙ্গাত্মক বাস্তবতায় —ঝাড়ু হাতে যারা রাজনীতি পরিষ্কার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেই ময়লা ছড়ানোর অভিযোগে গঠিত হয়েছে নতুন কমিটি। এই দ্বন্দ্ব, এই বিভাজন, এই ভেতরের সংঘাতই কি তবে আবারও ধানের শীষের পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করছে?এমন প্রশ্নই আজ ঘুরছে পূবাইল থেকে। 
 
উল্লেখ্য -বুধবার (৭ জানুয়ারি) গাজীপুর মহানগরের পুবাইল থানা যুবদলের বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। কেন্দ্রীয় যুবদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মজিবুর রহমান রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সোহেল খান।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ