উত্তর মালির টিম্বাকটু অঞ্চলে নাইজার নদীতে একটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা ও নিহতদের স্বজনরা মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার টিমবুক্তু অঞ্চলের ডিরে শহরের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।ডিরের বাসিন্দা মুসা আগ আলমুবারেক ত্রাওরে জানান, এই দুর্ঘটনায় তিনি তার পরিবারের ২১ জন সদস্যকে হারিয়েছেন।
তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার ও গণনায় সহায়তা করেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে ওই অঞ্চলের বাসিন্দা ও সাবেক জাতীয় পরিষদের সদস্য আলকাইদি তুরে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ২৩ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে টেলিফোনে তিনি বলেন, ‘নদীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহগুলো আমি নিজেই তুলেছি। কিছু মরদেহ ইতোমধ্যেই পচতে শুরু করেছিল।
এখনও আমার নাকে সেই গন্ধ লেগে আছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌকাটিতে কৃষক ও পরিবারগুলো ছিল, যারা ধান কাটার কাজ শেষ করে ফিরছিলেন। রাতের বেলায় নৌকাটি গন্তব্যে পৌঁছায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই এলাকায় রাতের সময় নৌকা ভেড়ানো নিষিদ্ধ, কারণ আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাওরের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকার চালক সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অন্য একটি স্থানে নৌকা ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ফেরিটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়।
২৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ মালি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার মুখে রয়েছে। প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সঙ্গে মিলেও দেশটি এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আল-কায়েদা সমর্থিত জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) গোষ্ঠী টিম্বাকটু অঞ্চলে সক্রিয়। নাইজার নদীতে নৌকাদুর্ঘটনা নতুন নয়। যদিও এ ধরনের দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই, তবে এবারের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আলকাইদি তুরে বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় বহু নারী ও শিশু ডুবে মারা যাওয়ায় পুরো টিমবুক্তু অঞ্চল শোকে আচ্ছন্ন। জনজীবনে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।’
সূত্র : এপি