২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৩ পি.এম

বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দেড়শ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে অবশেষে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন গঠন করা হলো। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৌর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি করপোরেশনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর। ঘোষণার পর তিনি ফলক উন্মোচন করেন ও পৌরসভা চত্বরে বৃক্ষরোপন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করলাম। এখন আপনাদের দায়িত্ব নিজেদের শহরকে পরিষ্কার রাখা। আমি আসার পথে অনেক জায়গায় ময়লা দেখেছি। আপনারা আপনাদের শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ সদর আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪-(কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের এমপি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের এমপি আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের এমপি মোরশেদ মিলটন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে বগুড়ায় এসে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বগুড়া শহরের সার্কিট হাউসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১১টায় বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

দিনের দ্বিতীয়ার্ধে গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন। পরে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করবেন এবং বিকেলে পুনরায় শহরে ফিরবেন। বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিবেন তিনি।

তার এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহর ও আশপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করেন তাকে একনজর দেখার জন্য। সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসা নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা। সেই তুলনায় নগর সেবার পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।

বগুড়ার ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। পরে ধাপে ধাপে এর আয়তন বাড়ানো হয়। ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকেই এটিকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হতে থাকে। সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও। তাদের দাবি, বগুড়ার যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

বগুড়া পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার জানান, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। এজন্য বগুড়াবাসীর কাছে আজকের দিনটি শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, একটি নতুন নগর গড়ার সূচনা।