২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ পি.এম

জ্বালানি তেল সংকটে স্থবির দেশ: জনজীবন দূর্বিষহ

জ্বালানি তেল সংকটে স্থবির দেশ: জনজীবন দূর্বিষহ


হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কার্যত থমকে গেছে দেশের চাকা। পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার তালা ঝুলছে—ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি সেবাও পড়েছে হুমকির মুখে, বাড়ছে উদ্বেগ ও অসন্তোষ। রোববার ১৮ এপ্রিল থেকে জ্বালানি তেলের প্রতি লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়িয়েছে সরকার। 

তারপরও কেউ কেউ বলছেন--তেলের তেলেসমাতি! দাম বাড়িয়েও কিনতে কোটি কোটি মানুষের হাহাকার—বেশি দামেও মিলছে না জ্বালানি তেল। এ সংকট শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সরকারি অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এর প্রভাবের মুখে পড়েছে।

সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ, আর যেগুলো খোলা রয়েছে সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা, আর পরিবহন খাতে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থার শঙ্কা।
সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনে। 

বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক পরিবহন মালিক ইতোমধ্যে আংশিক বা পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, বাড়ছে জনঅসন্তোষ।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে জরুরি সেবা খাত, বিশেষ করে পুলিশ। জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় পুলিশের জন্য জ্বালানি পাম্পে পৃথক লাইন চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন। গত ১৭ এপ্রিল পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা অপরাধ দমন, জরুরি অভিযান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমান সংকটে জ্বালানি পেতে দেরি হওয়ায় এসব কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্রুত জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন হলে লাইনের বাইরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক স্থানে উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সরকার পূর্বে জরুরি সেবা ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ এই অগ্রাধিকার মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, ফলে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব এবং কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা অর্ডার করতে পারছেন না। কোথাও সামান্য জ্বালানি এলেই সেখানে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, আর সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন তাদের দাবিতে বলেছে, সারাদেশের সব পাম্পে পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যদের জন্য পৃথক লাইন বা বিশেষ বুথ চালু করা হলে জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হবে।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হয়ে দেশের জনজীবনে পূর্ণমাত্রার অচলাবস্থা নেমে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাই ভুক্তভোগীরা বলছেন,তেলবাজি নয়, তেলের সংকট নিরসনে আন্তরিক জরুরি  পদক্ষেপ নিতে হবে।