২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ এ.এম

ঝিনাইদহে মাদকবিরোধী অভিযানে গতি: ৪ মাসেই বড় সাফল্য

ঝিনাইদহে মাদকবিরোধী অভিযানে গতি: ৪ মাসেই বড় সাফল্য

ঝিনাইদহে মাদক নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। সীমান্তঘেঁষা এই জেলাকে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, গত কয়েক মাসে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপে পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকালীন চার মাসে মাদকবিরোধী অভিযানের পরিমাণ ও কার্যকারিতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, মামলা দায়ের এবং সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে।


তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের আগের চার মাসের তুলনায় তাঁর সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যাও বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়ে সরকারি কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব জমা হয়েছে।


প্রশাসনের এই তৎপরতার পেছনে ছিল সমন্বিত উদ্যোগ। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একসঙ্গে কাজ করে একটি কার্যকর টাস্কফোর্স গঠন করে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নজরদারি জোরদার হয় এবং চোরাচালান রোধে অভিযান তীব্রতা পায়।


ঝিনাইদহ জেলার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্তের একটি অংশ এখনো উন্মুক্ত থাকায় মাদক প্রবেশের ঝুঁকি বিদ্যমান। বিশেষ করে মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করে বলে স্থানীয়রা জানান। এ কারণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি কাটেনি।


এদিকে, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ দখলদারদের একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়—মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত কৌশল। সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি চাহিদা কমাতে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, কর্মসংস্থান এবং সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।


ঝিনাইদহবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্তঘেঁষা এই জেলাকে ধীরে ধীরে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।