গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু ও একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১০ মে) ভোরে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা বাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভে থমকে যায় পুরো জনপদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারায় ছিল। রোববার ভোররাত চারটার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নীল রঙের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাঘচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তেই আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরিয়ে এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।
এ সময় চোরচক্রের কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দা উদ্ধার করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের উপর গণপিটুনি চালায়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তারা। পরে পুলিশ এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মারা যান।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা চোরচক্রের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই সেটি পুড়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।কালিয়াকৈর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, নিহতরা হাসপাতালে ভুয়া পরিচয় দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে পিবিআইয়ের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, গরু চুরির চেষ্টা ও গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।