ধর্মীয় পবিত্রতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে পূবাইল বাজার আজ উত্তাল। যে মসজিদ মুসল্লিদের মিলনস্থল, সেই মসজিদকে ঘিরে উঠেছে গোপন সিদ্ধান্ত, একতরফা কমিটি আর জনঅসন্তোষের তীব্র অভিযোগ। রাতের আঁধারে চায়ের দোকানে বসে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে পুরো এলাকা—রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুসল্লি ও ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশার নামাজের পর বাজার সংলগ্ন বালু নদীর পাড়ে একটি চা দোকানে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে পূবাইল বাজার জামে মসজিদের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। যেই কমিটিতে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টদের আবারও পুনর্বাসন করা হয়েছে। জানা যায়, একই দিন জুমার নামাজে ঘোষণা ছিল—বুধবার জোহরের পর উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মুসল্লি ও ব্যবসায়ীরা। রাতেই বাজার সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ‘গোপন কমিটি মানি না’, ‘মসজিদে স্বচ্ছতা চাই’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একজন মুসল্লি বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর—এখানে গোপনে কমিটি করা মানে মুসল্লিদের অপমান করা।”
ব্যবসায়ী আফজাল হোসেনের অভিযোগ, “আমাদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে চা দোকানে কমিটি গঠন করা হয়েছে—এটা সরাসরি প্রতারণা।” দোকানি আল আমিনের প্রশ্ন, “মসজিদের সিদ্ধান্ত যদি চায়ের টেবিলে হয়, তাহলে মসজিদের মর্যাদা কোথায়? স্থানীয়দের দাবি, নবগঠিত কমিটিতে বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে পূবাইল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অস্থায়ী কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। উত্তেজনার মুখে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলেন, “এ ধরনের গোপন সিদ্ধান্ত দল সমর্থন করে না। কেউ দলের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ও যুবদল নেতা পনির হোসেনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একতরফা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির তৃণমূলের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতারা কেউ বলেননি বিএনপিকে ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ওই কমিটিতে পুনরায় পুনর্বাসন করতে। এটা বর্তমান বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেই বিএনপি নেতারা এই ব্যাপারে জড়িত তাদের দলীয়ভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। অভিযোগ রয়েছে, গঠিত কমিটির পক্ষে দোকানে দোকানে ঘুরে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এই বিষয়ে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাজারের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গোপন সিদ্ধান্ত ও একতরফা কমিটি গঠন সামাজিক অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
পূবাইল এখন এক অস্থির সময় পার করছে—মসজিদের মর্যাদা রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

