অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র পেয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, তার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) নেতৃত্বে বিএনপি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে, বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। সেই ত্যাগের মধ্য দিয়েই আমরা পাওনা গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি।’
আজ রোববার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের নতুন কমিটি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ সবার জানা, পরবর্তী সময়ে সেই দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সেই অবদান আজও আমরা সুফল হিসেবে ভোগ করছি। আমি মনে করি, তারই সুযোগ্য পুত্র, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে তিনি ১৬ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম, গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের ভয়াবহ সময় পেরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতায় এসে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড চালু করেছেন, দিনাজপুরে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেছেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট বাংলাদেশের নিজস্ব নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সঙ্কট, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সরকার ধীরে ধীরে এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারেক রহমান যে রিনিউএবল এনার্জির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।
বাংলাদেশেও রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনে কর কমিয়ে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রীদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের বেশি মানুষ হাম রোগে মারা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আর কোনো মৃত্যু না ঘটে।

