নির্বাচনী ইশতেহার ও 'জুলাই সনদ' পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ রবিবার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে 'জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত সময়ে দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে। দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের ওপর বাড়তি দুর্ভোগ না চাপিয়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।"
মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন:
- বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা: সন্ধ্যার ৭টার পর দেশের মার্কেট ও শপিংমলে যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি।
- দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতি: দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য ডিসিদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
- পদের মর্যাদা: তিনি কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে হবে। সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়।"
এর আগে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করে সকাল সোয়া ১০টার দিকে সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের দিকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানালে তিনি হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।
এবারের ডিসি সম্মেলন ৩ মে থেকে শুরু হয়ে আগামী ৬ মে পর্যন্ত মোট চার দিন চলবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এবারের সম্মেলন আগের বছরের তুলনায় এক দিন বেশি বাড়ানো হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত ও আলোচিত হবে।

