- হোম
- জাতীয়
- জিনোম এডিটিংয়ে জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন দিগন্ত
-
জিনোম এডিটিংয়ে জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন দিগন্ত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশকাল: ৯ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন আশার বার্তা নিয়ে গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হলো জিনোম এডিটিং প্রযুক্তিভিত্তিক ধানের জাত উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা। খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে সামনে রেখে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা জানিয়েছেন, আধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাই সহনশীল উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে বড় অগ্রগতি সম্ভব।
শনিবার গাজীপুরের ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। “জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উন্নয়ন” শীর্ষক এ আয়োজন ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অধীনে BAS-USDA-PAL অর্থায়িত গবেষণা প্রকল্পের অংশ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশের বিশিষ্ট জীবপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক হাসিনা খান।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা তাদের চলমান গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেন। আলোচনায় ধানের জাত উন্নয়নে গাইড-আরএনএ ডিজাইন, জীবনিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চফলনশীল ক্লাইমেট-স্মার্ট ধান উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।
গবেষকরা জানান, ইতোমধ্যে লবণাক্ততা, উচ্চতাপ, ব্লাস্ট ও ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগ প্রতিরোধী এবং সার-সাশ্রয়ী ধানের জাত উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে জিনোম-এডিটেড জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০ জন গবেষক, শিল্প প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ অংশ নেওয়া এ কর্মশালায় শিক্ষা ও শিল্প খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দেশের কৃষকদের জন্য অধিক সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে।