গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকায় নিজ ঘরের ভেতর থেকে কুলসুম বেগম (৪৫) নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা ভর করেছে স্থানীয়দের মধ্যে। অন্যদিকে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একযোগে মাঠে নেমেছে তিন সংস্থা পূবাইল থানা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ঘিরে ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত কুলসুম বেগম স্থানীয় মৃত আতাব উদ্দিন কাজীর মেয়ে। তিনি নিজ বাড়ির পাশেই একটি ছোট দোকান পরিচালনা করতেন। স্বাভাবিক ও নিরীহ জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই নারীর এমন নির্মম মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে প্রতিবেশীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরের পর থেকে তার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে সন্দেহ হলে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভাড়াটিয়ারা বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে টিনের বেড়া টপকে ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর থেকে রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে হত্যার উদ্দেশ্য ও জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পূবাইল থানার এসআই নাজমুল হক বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে তিন সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এদিকে, নিজ ঘরের ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বেড়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কেন এবং কারা এমন বর্বরোচিতভাবে হত্যা করল কুলসুম বেগমকে?
পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

