গাজীপুর-২ (সদর–টঙ্গী) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বড় ধরনের ছাঁটাই হয়েছে। বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনি কার্যত বিদ্রোহীমুক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট সুবিধাজনক ফাঁকা মাঠ অবস্থানে চলে গেলেন রনি। শনিবার (৩ জানুয়ারি) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর-২ আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন ত্রুটি ও আইনগত অসংগতির কারণে বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকার, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিত বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির ইসরাফিল মিয়া, খেলাফত মজলিসের খন্দকার রুহুল আমিন, গণ অধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খান, জনতার দলের মো. শরিফুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তাপসী তন্ময় চৌধুরী। মনোনয়ন বাতিলের ফলে গাজীপুর-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যুতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সালাউদ্দিন সরকারের মনোনয়ন বাতিলের মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটে গেছে। এদিকে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনির সমর্থকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, এখন দলীয় ঐক্য বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসনে নির্বাচনী লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আপিল ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার ওপর। গাজীপুর-২ আসন বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জামায়াতে প্রার্থী অথবা তাদের সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গে চূড়ান্ত লড়াইটা হবে বিএনপির রনির বলে ধারণা করা হচ্ছে।

